আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে অভিযান চালিয়ে হাজারো ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ও শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চালানো অভিযানে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে- এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা বেশ কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে কনট প্লেস এলাকা থেকেও শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অপরাধের রেকর্ড রয়েছে- এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীগামী কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই সিজেপির কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং পূর্ববর্তী বিক্ষোভে দেওয়া শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দেশের তরুণদের ভয় পাচ্ছে।
দীপকে বলেন, তরুণদের নিয়ে সরকার এতটাই উদ্বিগ্ন যে দিল্লির মেট্রো ও সড়ক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতেই তরুণেরা রাজপথে নামছেন। সরকার কি নিজেদের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই শক্তি প্রয়োগ করতে চায়?
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।