October 9, 2026, 7:24 pm

শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক নাভি পিল্লাই

Reporter Name
  • আপডেট Friday, October 9, 2026
  • 1 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা গণহত্যার মামলায় একজন অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া মামলাটি দায়ের করে। মামলাটির মূল শুনানি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর ব্যাপক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাঁদের অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত এসব ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয় গাম্বিয়া। মামলাটির মাধ্যমে গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার চাইছে দেশটি।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচারিক দায়িত্ব পালন—দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।
১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পিল্লাই। বর্ণবাদী শাসনামলে আইন পেশায় কাজ শুরু করা পিল্লাই ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হন। পরে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন পিল্লাই। এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গাজায় সংঘটিত ঘটনাবলি নিয়ে কমিশনের প্রতিবেদনে গণহত্যার সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়, যা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে।
নোবেল কমিটি পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের মূল্যায়নে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা এবং রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করা শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর