শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:: গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গাড়িতে থাকা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা হলেন বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাঁদের গাড়িচালক। তাঁরা নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে গাজীপুরের মাওনায় ফিরছিলেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় রাখা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের প্রাইভেটকারটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়িটির পথ আটকে দেয়।
এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে হামলাকারীরা। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুলিবিদ্ধ হিমেলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হিমেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টাকা পরিবহনের সময় বিকাশকর্মীদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। এ ছাড়া চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।