নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে। কারাবন্দি খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের মুক্তি এবং মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও অর্থ লুটের অভিযোগে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাশিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘প্রাইভেট মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদ, গাজীপুর’ ও ‘যুব জমিয়ত বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগর শাখা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আলামত যাচাইয়ের আগেই শিক্ষককে মারধর করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি মাদ্রাসায় হামলার ঘটনাটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানোর পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর প্রাইভেট মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল রশীদ আকন্দ, টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির আনোয়ার হোসেন, মুফতি আমিরুল ইসলাম, আব্দুল করীম নাটোরী, মাওলানা কেরামত আলী, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা আলমাস হোসেন ও সেলিম হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা বা তাঁর ওপর হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া কাউকে নির্দোষ বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তাঁরা শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি, তাঁর মুক্তির বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা এবং মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও জমি কেনার জন্য রাখা ১৭ লাখ টাকা লুটের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিরও যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এসব অভিযোগে দায়ের করা মামলার অগ্রগতি দৃশ্যমান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।