গাজীপুর প্রতিনিধি:: গাজীপুর মহানগরীর বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘গ্লিমার ফ্যাশন লিমিটেড’ নামের একটি শিল্পকারখানায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত কারখানাটিতে হামলা চালিয়ে মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ টঙ্গী পূর্ব থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, সিরাজুল ইসলাম সাথী ও এমপির পিএস প্রবালের প্রভাব ও চাপের কারণে থানায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় শিল্পকারখানার মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত না হলে কারখানার নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, শিল্পাঞ্চলের একটি কারখানায় প্রকাশ্যে মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠার পরও যদি আইনগত প্রতিকার পেতে জটিলতার মুখে পড়তে হয়, তাহলে শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।