বিনোদন ডেস্ক :: এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘ কারাবাস শেষে এক নতুন জীবনবোধ নিয়ে ফিরেছেন। শোবিজের জমকালো জগত থেকে হঠাৎ কারাগারের চার দেয়ালের বন্দি জীবন-এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজের মাঝে খুঁজে পেয়েছেন আত্মশুদ্ধির এক নতুন দিগন্ত।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১১ মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৮ মার্চ মুক্তি পান এই অভিনেতা। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই নিভৃত জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের গল্প শুনিয়েছেন।
সিদ্দিক জানান, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর টানা ১০ মাস ২২ দিন তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তবে এই সময়টিকে তিনি কেবল সাজা হিসেবে নেননি, বরং নিজেকে বদলানোর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, কারাগারে মানুষ জীবন নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অবকাশ পায়। আগে ধর্মের প্রতি ততটা মনোযোগী না থাকলেও, সেখানে নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় অনুশাসনে মনোনিবেশ করেন। স্রষ্টাই তাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কারাগারের দেয়ালে খোদাই করা ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই নীতিবাক্যটি সিদ্দিকের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, কারা কর্তৃপক্ষ তাকে নিরাপদে রেখেছিল এবং সেই নিরাপত্তার ভেতরেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজের জীবনের প্রকৃত আলোর পথ।
বন্দিদশা সিদ্দিকের সৃজনশীল সত্তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কারাগারে থাকাকালীন তিনি ১৫টি নাটক ও ৩টি চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন। এছাড়া নিজের জীবন ও কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি বইও রচনা করেছেন তিনি।
মুক্তির পর এখনো সেই নিয়ন্ত্রিত জীবনের মানসিক ও শারীরিক রেশ পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই অভিনেতা। বর্তমানে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি কারাগারে থাকাকালীন করা সৃষ্টিগুলো নিয়ে নতুন করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান। কারাগারের অন্ধকার থেকে তার এই আত্মিক উত্তরণ যেন এক ভিন্ন জীবনের গল্প হয়ে উঠেছে।