April 24, 2026, 7:26 pm

সাধারণ সম্পাদক ছাড়াই শেষ হলো শিল্পী সমিতির মেয়াদ, আসছে নতুন নেতৃত্ব

Reporter Name
  • আপডেট Friday, April 24, 2026
  • 12 জন দেখেছে

বিনোদন প্রতিবেদক:: গত কয়েক বছর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ওই চেয়ারে বসার জন্য জায়েদ খান, নিপুণ আক্তার ও ডিপজলের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখলের আশায় তিন তারকার লড়াইয়ের নানা ঘটনায় নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়েন তাঁরা, নানা হাস্যরসের জন্ম দেন সাধারণ মানুষের মাঝে। শেষ পর্যন্ত সেই ‘সাধারণ সম্পাদক’ ছাড়াই অনেকটা নীরবে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ।
বর্তমান কমিটির প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে দেখা যায়নি এফডিসিতে। এমনকি সমিতির অনুষ্ঠানগুলোতেও চোখে পড়েনি তাঁর উপস্থিতি। সমস্যার শুরু হয়েছিল শিল্পী সমিতির নির্বাচনের এক মাস পর নির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত নিপুণের রিটের পর। এরপর ডিপজল ও নিপুণ একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মেতে ওঠেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বদলে যায় প্রেক্ষাপট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আড়ালে চলে যান ডিপজল ও নিপুণ দুজনেই।
সভাপতি মিশা সওদাগরও ছিলেন চুপচাপ। তিনি মেয়াদের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন দেশের বাইরে। ২২ এপ্রিল বর্তমান কমিটির শেষ কার্যনির্বাহী মিটিংয়ের সময়েও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। এমনকি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে শিল্পী সমিতির এই কমিটির নানা কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন দুই কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা ইসলাম মুক্তি ও সনি রহমান। কমিটির বাকি সদস্যদের নিয়ে তাঁরা দুজন চেষ্টা করে গেছেন সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার। সমিতির শেষ মিটিংয়ের পরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুক্তি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সম্পাদক খুব অসুস্থ, তাঁর চোখে গুরুতর সমস্যা হয়েছে। উনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। অন্যদিকে সভাপতিকে দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কারণ, তাঁর পুরো পরিবার দেশের বাইরে থাকে। তবে, সমিতির সব সিদ্ধান্ত সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভাপতি বিদেশে যাওয়ার আগে সহসভাপতি ডি এ তায়েব ভাইকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।’
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক না থাকলেও শিল্পী সমিতির কাজ থেমে থাকেনি বলে জানান মুক্তি। তিনি বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আমাদের কমিটির অনেকে দেশের বাইরে আছেন। কয়েকজন সদস্য অসুস্থ, আবার বিশেষ কারণে কয়েকজন সদস্য সমিতিতে আসতে পারেননি। কিন্তু তাঁদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। সমিতির কাজ কিন্তু থেমে ছিল না। আমরা কয়েকজন অ্যাকটিভ ছিলাম। একটি কমিটি থেকে চার-পাঁচজন কাজ করা মানেই কিন্তু পুরো কমিটি কাজ করা।’
এদিকে মুক্তি ও সনি রহমান দুজনেই ঘোষণা দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। সাধারণ সম্পাদক পদে মুক্তি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়বেন সনি। অন্যদিকে মুক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সবশেষ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মুক্তি বলেন, ‘শিল্পীদের পাশে থাকার জন্যই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিল্পীদের জন্য যা করা প্রয়োজন তা-ই করার চেষ্টা করব। প্রথম লক্ষ থাকবে সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকেন, তাঁদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা।’
জানা গেছে, আগামী জুন অথবা জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। জয় ও মুক্তি জানান, এক মাসের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের ইশতেহার। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি পদপ্রার্থীর নামসহ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করবেন তাঁরা। দুজনেই জানালেন প্যানেলে থাকবে একাধিক চমক।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর