বিনোদন প্রতিবেদক :: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা বর্তমানে ভালো নেই। একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করলেও এখন অসুস্থতার কারণে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সনি রহমান। সনি রহমান বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী ও মমতাময়ী মা খালেদা আক্তার কল্পনা আপুর দোয়া নিতে ফোন দিয়েছিলাম।
তখন তিনি আমাকে নিজের অসুস্থতার কথা জানান। বর্তমানে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমি তাকে বলেছি, কোনো প্রয়োজন হলে যেন আমাকে জানাবেন। আমরা শিল্পী সমিতি সবসময় শিল্পীদের পাশে আছি।’ অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘কল্পনা আপুর বয়স হয়েছে। বয়স হলে মানুষের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণেই তিনি অসুস্থ। আশা করছি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন খালেদা আক্তার কল্পনা। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি- দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পরিচালক মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হলেও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধাকৃষ্ণ’।
অভিনয়ে আসার আগের গল্পটাও যেন সিনেমার মতোই। শিক্ষকতা ছিল তার পেশা। একদিন লন্ড্রি থেকে আনা কাপড়ের ভাঁজে হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন—‘নতুন মুখের সন্ধানে’। কৌতূহল থেকে আবেদন করেছিলেন, তারপর ভুলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাগজটিই বদলে দেয় তার পুরো জীবন, এনে দেয় আলো-ঝলমলে এক যাত্রা।
তবে সময়ের কাছে মানুষকে হার মানতে হয়। ফলে কর্মমুখর সেই মানুষটি নিভৃতে, নীরবে সময় কাটাচ্ছেন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে। পর্দার উজ্জ্বল এই মুখের জন্য সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা- আবার সুস্থ হয়ে হাসিমুখে কর্মব্যস্ত সময়ে ফিরে আসুক প্রিয় খালেদা আক্তার কল্পনা।
১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারে জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেত্রী। বাবার উৎসাহে অভিনয়ে আসেন খালেদা আক্তার কল্পনা। পরিবারে বাবার নিজের থেকেই উৎসাহ দেয়ার ঘটনা খুব কম দেখা যায়। একবার গ্রামে একটা প্রোগ্রামে শিশুশিল্পী পাওয়া যাচ্ছিল না। তার বাবা এসে বললেন কাজটা করবে কিনা। মেয়ে উৎসাহ বোধ করল। কাজটা করার পর পুরস্কার পেয়ে যান। তখন তার মধ্যে অভিনয় করার চিন্তা আরো প্রবল হয়ে উঠল। তিনি মনে করলেন অভিনয়টা তাকে দিয়ে হবে। পড়াশোনায়ও খুব ভালো ছিলেন। স্কুল, কলেজে শিক্ষকদের খুব উৎসাহ পেতেন পড়াশোনায়, সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণে। বিজ্ঞাপনে খালেদা আক্তার কল্পনাকে প্রথম দেখা যায় আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় লালবাগের ‘হাসমার্কা গন্ধরাজ নারকেল তেল’র বিজ্ঞাপনে। এরপর আরো বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হন তিনি।
মায়ের চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘তিনকন্যা’ ছবিতে। ছবিতে সবচেয়ে বেশি মা হয়েছেন নায়ক রুবেলের। রুবেল তাকে মা ডাকে। এর পাশাপাশি সেই সময়ের ব্যস্ত সব নায়কের পাশাপাশি বর্তমানের শাকিব খান পর্যন্ত মায়ের ভূমিকায় তিনি ছিলেন। ‘রকি’ ছবিতে কিছুটা চ্যালেণ্ঞ্জিং চরিত্রে ছিলেন। একই ছবিতে জসিমের মা ও স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
খালেদা আক্তার কল্পনার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে- পাতাল বিজয়, রাধাকৃষ্ণ, তিনকন্যা, ঢাকা ৮৬, সন্ধি, আগমন, দায়ী কে, রকি, বীরপুরুষ, মায়ের কান্না, ডন, ববি, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সন্ত্রাস, লক্ষীর সংসার, চাকর, দোলা, অন্ধ প্রেম, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, পালাবি কোথায়, আনন্দ অশ্রু, শিল্পী, সতর্ক শয়তান, জিনের বাদশা, অচেনা, মহাগুরু, ফাঁসি, পাগল মন, অচল পয়সা, অচেনা মানুষ, বিদ্রোহী প্রেমিক, বাঘা বাঘিনী, বাঁশিওয়ালা, শেষ আঘাত, বাবার বাবা, কাসেম মালার প্রেম, লাভ, আয়না বিবির পালা, জিদ্দি, প্রেমের নাম বেদনা, নারী আন্দোলন, খুনের পরিণাম, বেপরোয়া, ফাঁসির আসামী, চাঁদকুমারী চাষার ছেলে, লাল সবুজ, মোহনমালার বনবাস, আঁখি মিলন, হৃদয় শুধু তোমার জন্য, নয়া বাইদানি, কান্দ কেন মন, গুণাই বিবি, ফাইভ রাইফেলস, গহর বাদশা বানেছা পরী, আখেরি হামলা, দুঃখিনী মা, ও আমার ছেলে, ঠাণ্ডা মাথার খুনি, বিচ্ছু বাহিনী, সাহসী মানুষ চাই, ভালোবাসা কারে কয়, লাল বাদশা, মেঘের পরে মেঘ, আমার প্রাণের প্রিয়া, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, গহীনে শব্দ, কুসুম কুসুম প্রেম, ডন নাম্বার ওয়ান।