June 1, 2026, 11:39 am

মুখস্ত শিক্ষার নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, May 12, 2024
  • 98 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বিশেষ করে মুখস্ত শিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শুধুমাত্র মুখস্ত বিদ্যা শিখবে না। একটা শিশুর ভেতর যে মেধা ও মনন থাকে তাকে বিকষিত হওয়ার সুযোগ দেয়া। তার ঐ মেধা দিয়েই যেন সে এগিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম এবং শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবনে ডিজিটালভাবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
এরআগে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সম্মিলিত ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপর নয়টি সাধারণ, একটি মাদ্রাসা বোর্ডসহ দশটি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কারিগরি বোর্ডের মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছরে ৫ হাজার ৯৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে এবং ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রুপরেখা-২০২১’ ও আমরা প্রণয়ন করেছি। সেই সাথে শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ সবধরণের সুযোগ-সুবিধা আমরা সরকারে আসার পর দিয়েছি।
‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয় সেজন্য তাঁর সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই বলে গেছেন শিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হয় সেটা বিনিয়োগ। আমরা বিনিয়োগ করি।
আজ এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দ অনুভ’তি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মনে করি শিক্ষাক্ষেত্রে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ তৈরী করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে অভিভাবকদেরও একটা আগ্রহ থাকবে যে তাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হবে।
প্রধানমন্ত্রী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অতীতে এমনও দেখা গেছে যে মাসের পর মাস ফল প্রকাশ হয়নি। কিন্তু আমরা এটাকে একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছি। এমনকি কোভিড-১৯ এর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সময়মতো ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে এসে তিনি সাক্ষরতার হার পেয়েছিলেন মাত্র ৪৫ ভাগ। তাঁর সরকার সে সময় নিরক্ষরতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জেলা ভিত্তিক সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং বয়স্ক শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশে স্বক্ষরতার হার উন্নীত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ফলে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর তিনি দেখেন যে সাক্ষরতার হার কমে আবার ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। পুনরায় উদ্যোগ নেয়ায় আজ সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ১৫ বছরে আমাদের বিরাট অর্জন, সেই সাথে শিক্ষার্থীর বিশেষ করে ছাত্রী সংখ্যাও বেড়েছে। এক সময় যেখনে ৫৪ শতাংশ ছাত্রীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেত আজ তাদের প্রথমিক বিদ্যালয় গমনের হার ৯৮ শতাংশ’।
শেখ হাসিনা বলেন, আজ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পর্যালোচনাতেও দেখেছেন অধিকাংশ শিক্ষা বোর্ডেই ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার বেশি। এটা খুশির খবর। কারণ আমরা নারী শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আর জাতির পিতাও স্বাধীরতার পর নারী শিক্ষা প্রাথমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করে যান। সেটাকে এখন এসএসসি পর্যন্ত আমরা করতে পেরেছি।
তিনি সাম্প্রতিক প্রবনতা ‘কিশোর গ্যাং’ এর উল্লেখ করে বলেন, কেন ছেলে-মেয়েরা এ পথে যাবে? এটাতো আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। যখন তাদের পড়াশোনা করা দরকার বা বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার লাইনে যেতে পারে সেক্ষেত্রে এই লাইনে কেন গেল সেটা আমাদের বের করা দরকার। এদেরকে এখান থেকে বিরত করা ও একটা সুস্থ পরিবেশে নিয়ে আসতে যা করা দরকার তা আমাদের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্যদের পাশাপাশি তাদের বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও অভিনন্দন জানান। আর যারা কৃতকার্য হতে পারেনি তাদের মন খারাপ না করতে বলেন।
জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে তাঁর সরকারও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে আসার তিনি দেখেন বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব কম। সে সময় তাঁর সরকার বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টির জন্য সারাদেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল ট্রেনিং এর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি যেন আগ্রহ সৃষ্টি হয় সে জন্য বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৬৪ কোটি ৭৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৩ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে এবং এখন বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যুগ। আজকের ছেলে-মেয়েরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট সিটিজেন হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশের সৈনিক হিসেবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের কল্যাণ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর