নিজস্ব প্রতিবেদক :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা গ্রুপের অর্জন নয়; এটি এ দেশের সব মানুষের অর্জন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এ অর্জন এসেছে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম একদিনে সফল হয় না। দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে জিয়া পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা ঘটেছে। ইলিয়াস আলীর মতো শত শত নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, যাদের অনেকেরই এখনো সন্ধান মেলেনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা মুসা আল হাফিজ। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
বক্তব্য রাখেন দলের সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, সহকারী মহাসচিব মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে পারস্পরিক বিরোধ, প্রতিহিংসা ও বিভক্তির রাজনীতি অব্যাহত থাকলে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অগ্রযাত্রা রক্ষায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সব শক্তির মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐকমত্যের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বক্তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত জাতির সম্মিলিত অঙ্গীকার।