ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে একযোগে ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে পাঁচটি দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। ভোটের আগের রাতেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন, পাহারা দেন। সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলোয়ার হোসেনের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। তবে প্রচারে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর তৎপরতা বেশি চোখে পড়ছে। ঠাকুরগাঁও নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা।
মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এ আসনে পোস্টাল ভোটের জন্য ২৮৯ জন ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। আসনের ১১৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। বাকি ৭০টি কেন্দ্রকে মধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এবার গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় তিন গুণ বেশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয় থেকে সাতজন পুলিশ সদস্য ও সঙ্গে আনসার সদস্যরা থাকবেন। ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন। ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। ব্যবহার করা হচ্ছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও কে-৯ ডগ ইউনিট। এসআরবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা হবে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। ব্যর্থ হলে ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেছে ১১ দলীয় ঐক্য। দাবিগুলো হলো, উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা নির্বাচন ভবন থেকে ভোটগ্রহণ মিনিট বাই মিনিট মনিটরিং করব। ভোটের দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদ পোর্টালে প্রকাশিত খবর এবং তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হবে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিটার্নিং অফিসার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।