স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সোমবার আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটাবের কেন্দ্রীয় প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ।
নাটাবের গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি সাংবাদিক বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার শাহিনুর রহমান, সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম তপুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
আলোচনা সভায় নাটাবের কেন্দ্রীয় প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, বাংলাদেশে ক্যানসার, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে থাকে এসব তামাক ব্যবহারের কারণে। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ১৫ বছরের কম বয়সীদের ৬.৯ শতাংশ তামাক সেবন করে। এর মধ্যে সরাসরি ধূমপান করেন ১ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। দেশে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ৪৬ শতাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তামাক ব্যবহারকারী।
তিনি আরও বলেন, ধূমপান না করেও অন্যের ছড়ানো ধোঁয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। তথ্যানুযায়ী, গণপরিবহণে ২ কোটি ৫০ লক্ষ এবং কর্মস্থলে ৮১ লক্ষ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, নিজেদের বাসাবাড়িতেই ৪ কোটিরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী সিগারেট তৈরির জন্য প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি গাছ কাটা পড়ছে এবং তামাক চাষের কারণে ৫ শতাংশ বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর সিগারেটের প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন বিষাক্ত ফিল্টার বর্জ্য হিসেবে পরিবেশকে দূষিত করছে। আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয় এবং জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।