June 12, 2026, 1:14 am

গাইবান্দা পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি নির্মানের প্রতিবাদে সাধারণ জনগণের ঘোষণা

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, June 11, 2026
  • 17 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানায় কোনো রামমূর্তি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না এবং কেউ নির্মাণের চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছে ‘গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর সাধারণ জনগণ’ নামে একটি সংগঠন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস নামের এক চিহ্নিত প্রতারক গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৫০ ফুট উচ্চতার একটি রামমূর্তি নির্মাণের চেষ্টা করছে, যা সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক। প্রশাসনকে এ উস্কানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, যে রামের জন্মস্থানের মিথ্যা দাবি করে ১৯৯২ সালে ভারতের বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল এবং ভারতজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে শহীদ করা হয়েছে, সেই রামের মূর্তি গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে হতে পারবে না। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যদি কোনো মূর্তি নির্মাণের ইচ্ছা থাকে, তবে তারা ভারতে গিয়ে নির্মাণ করুক; বাংলাদেশে তাদের কোনো মূর্তি নির্মাণের সুযোগ নেই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করছে, শত শত মসজিদ-মাদ্রাসা ভেঙে দিচ্ছে, শত বছরের পুরোনো মসজিদকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করছে, মুসলমানদের নির্মমভাবে শহীদ করছে এবং বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করছে। সেই হিন্দুরা বাংলাদেশে এসে ৫০ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করবে, তারা এত সাহস পেলো কোথায়? তাদের ইন্ধনদাতা কারা? সরকার ও প্রশাসনকে এর সঠিক তদন্ত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মসজিদের মিনারের চেয়ে উঁচু মূর্তি নির্মাণ হিন্দু উগ্রবাদীদের একটি বড় ষড়যন্ত্র। পবিত্র দ্বীন ইসলামকে হেয় করার জন্যই তারা এ কাজটি করছে। অথচ খোদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পূজার মূর্তির উচ্চতা ২০ ফুটের বেশি হতে দেয় না প্রশাসন।সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী একটি কৌশলগত সংবেদনশীল স্থানে অবস্থিত। এ এলাকাকে ‘বাংলাদেশের চিকেন নেক’ বলা হয়। ভারতের সহযোগিতায় ওই স্থানে বিশাল মূর্তি নির্মাণ বাংলাদেশকে দুই টুকরো করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ ভারতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। অবিলম্বে মূর্তির কার্যক্রম বন্ধ করে আংশিক মূর্তিটি বুলডোজার দিয়ে ভে*ঙে দিতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বুলডোজার দিয়ে কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই মূর্তি নির্মাণের পেছনে রয়েছে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস একজন চিহ্নিত প্রতারক। গত সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে সে জনগণের কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়।২০২২ সালে তার অপকর্মের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এনএসআই ও র‍্যাব-১৩-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হরিদাসের বিভিন্ন প্রতারণার বিষয় জনগণ জানতে পারে। সেই প্রতারক হরিদাস জেল থেকে বের হয়ে ১০-১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল মূর্তি নির্মাণ করছে; এর পেছনে অবশ্যই পার্শ্ববর্তী ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ইন্ধন রয়েছে।মূলতঃ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উ*স্কানি সৃষ্টি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তাদের দালাল হরিদাসকে দিয়ে বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ দ্বীন-বিরোধী ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর