স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভীর বাড়ছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে জ্বর, কারও শরীর দুর্বল, কেউ কেউ আবার ডেঙ্গুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। রোববার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আজিম খান (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আকরাম খানের ছেলে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন তিনজন। হাসপাতালের বিদ্যমান বেডে সাধারণ রোগীর চাপ বেশি। এর সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ১৮৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আইভি ফ্লুইড ও কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমও চলছে। শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থাপনা নয়, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর নালা, ময়লার স্তূপ ও সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে না এলে হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।