বিনোদন ডেস্ক:: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও প্রদর্শক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাদির খান নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। সিনেমা জগতকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। মৃত্যুর পর নিজের সমাধি কোথায় হবে, প্রায় ২০ বছর আগে ঠিক করে রেখেছেন তিনি। নিজের জন্য খোঁড়া সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চিরসত্য মৃত্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। বিষয়টি সিনেমার গল্পের মতো শোনালেও এটাই বাস্তব। ঢাকার রায়ের বাজারের প্রেমতলায় নিজের জন্য রাখা নির্ধারিত কবর নিয়মিত দেখতে আসেন নাদির খান। পরম মমতায় নিজ হাতে পরিষ্কার করেন তার শেষ শয্যা।
নাদির খান বলেন, মৃত্যুর পর এখানেই হবে আমার শেষ ঠিকানা। কবরটার পাশে দাঁড়ালে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। মহান আল্লাহ ও রাসুলকে (সা.) যারা ভালোবাসেন, তারা কখনোই মৃত্যুকে ভয় পান না। তিনি জানান, তার কবরটা যেন কোনোভাবে মাজারে রূপ দেওয়া না হয়। নাদির খান বলেন, আমি কোনো সাধক বা পীর-ফকির নই, আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। আমাকে যারা ভালোবাসেন, মৃত্যুর পর তারা আমার কবর জিয়ারত করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি এটাই চাই।
নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সিনেমা জগতকে বিদায় জানিয়ে দিলেন নাদির খান। একইসঙ্গে রুপালি পর্দার দীর্ঘ পথচলায় নিজের জানা-অজানা ভুলত্রুটির জন্য চলচ্চিত্র পরিবার ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আর কখনোই অভিনয়ে ফিরব না। জীবনের বাকি দিনগুলো আমি আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে চাই। নাদির খান মনে-প্রাণে একজন মাতৃভক্ত সন্তান। তিনি মনে করেন, পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, পরকালে মায়ের সঙ্গে তার দেখা হবে।
তিনি বলেন, জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি তা আমার মায়ের দোয়ার ফসল। আমি এখনো মায়ের দোয়াতেই বেঁচে আছি। আমার কাছে পৃথিবীতে মায়ের প্রতি ভালোবাসাই হলো সবচেয়ে বড় ধর্ম। নাদির খানের শেষ ইচ্ছা, তার লাশ যেন সর্বপ্রথম নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে। তিনি বলেন, যৌবনের সোনালী দিনগুলো আমি এফডিসিতে কাটিয়েছি। যাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি, সেই সহকর্মী ও চলচ্চিত্র পরিবারের মানুষরা যেন শেষবারের মতো আমাকে দেখতে পারেন। জানাজায় অংশ নিয়ে আমার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে পারেন।
নাদির খান ১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার রায়ের বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। এই অভিনেতার ভাষ্যমতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় সাড়ে তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘কসাই’, ‘উপহার’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘জংলী রানী’, ‘মনিহার’, ‘দিলদার আলী’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘অমানুষ’, ‘আবদুল্লাহ’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘ইতিহাস’, ‘কাবুলিওয়ালা’। তার প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘গরীবের বিচার নাই’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘আখেরী জবাব’, আবদুল্লাহ’, ‘স্বামী হারা সুন্দরী’। উল্লেখযোগ্য পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘স্বামী হারা সুন্দরী’।