July 21, 2026, 1:18 pm

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

Reporter Name
  • আপডেট Monday, July 20, 2026
  • 30 জন দেখেছে

:: স্পেনের একের পর এক আক্রমণ। আর আর্জেন্টিনার একের পর এক প্রতিরোধ। তবে শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশরা। অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব জয় করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। নিজেদের ইতিহাসে স্পেনের এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ‘লা রোহা’রা। সেই ম্যাচে ১১৬ মিনিটে ডাচদের হৃদয় ভাঙেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।এবার ১০৬ মিনিটে ম্যাচের ডেডলক ভাঙা গোলে আর্জেন্টাইনদের কাঁদালেন ফেরান তোরেস। ক্রস থেকে হেড নিয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস। সেই বলে শট নিয়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেন তোরেস। এই গোল হজমেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের যে স্বপ্ন, সেটি ভেঙেছে লিওনেল মেসির। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপেও হয়তো শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
একদিকে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ইউরোর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই দলের লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল আগেই, গত মার্চে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পরিত্যক্ত হয় সেই ফিনালিসিমা। সেই ম্যাচই যেন হলো এবার বিশ্বকাপে। রবিবার দিবাগত রাত ১টায় ঝাঁকঝমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় দুই দলের লড়াই। তারকার মেলা বাস নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় স্প্যানিশরা। কিন্তু পঞ্চম মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ হন লামিন ইয়ামাল। তার শট ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
মাঝমাঠ দখল রেখে প্রথমার্ধে দাপটের সঙ্গে খেললেও গোলশূন্য ব্যবধানে সমতায় থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। বিরতির মাঝে চলে ‘হাফটাইম শো’, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন আয়োজন এবারই প্রথম।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছড়ি ঘুরায় স্প্যানিশরা। তবে গোল আসছিল না কোনোভাবেই। তার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ১০ জনের দল হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। যোগ করা তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫ মিনিটে জালের দেখাও পেয়েছিল স্পেন। তবে ফাউলের কারণে নিকোর সেই গোল বাতিল হয়। ১১৩ মিনিটে স্পেনের আরেকটি গোল বাতিল হয়। সেটিও তোরেসের। তবে তার আগেই এই বার্সেলোনা তারকার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন।
পুরো টুর্নামেন্টে গোলপোস্টের নিচে তেমন পরীক্ষা দিতে হয়নি এমিলিয়ানোকে। তবে ফাইনালে সেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষককে। একের পর এক শট ফিরিয়ে দেন তিনি।
আর্জেন্টিনা হয়তো ম্যাচটি টেনে নিতে চেয়েছিল টাইব্রেকারে। তবে সেটি সম্ভব হয়নি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়েই ৩৬ বছর পর তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিলেন মেসিরা।তবে এবার সেটি হলো না। ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৯০ সালেও ফাইনালে খেলেছিলে লা আলবিসেলেস্তেরা। এবারও যেন সেটির পুনরাবৃত্তি হলো মেসির নেতৃত্বে।
পুরো ম্যাচেই প্রায় ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ২০টি শট নেয় স্পেন। তার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১১টি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত সময়ে কোনো শটই নিতে পারেনি। শেষ যে তিনটি শট নিয়েছে তা অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে। গোল হজমের পর কয়েকটি আক্রমণ করলে সফল হয়নি লিওনেল স্কালোনির দল।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর