October 3, 2026, 2:34 am

বাংলাদেশকে ৯ গোল দিয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া

Reporter Name
  • আপডেট Friday, October 2, 2026
  • 21 জন দেখেছে

ক্রীড়া ডেস্ক :: ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার এড়াতে পারেনি। এই জয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশ গতির ওপর নির্ভর করে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ১১ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে। ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে পাওয়া বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান মিচেল লি বেকার।
২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশের আক্রমণ থেকে বল বিপদমুক্ত করে পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। একাধিকবার প্রতিহত হওয়ার পর জটলার মধ্য থেকে বল জালে পাঠান লি বেকার।
এরপর ৩১ মিনিটে রিজকি রিদো করেন তৃতীয় গোল। তিন গোল হজমের পর অবশেষে ৩৬ মিনিটে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে সুকির নিচু ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান শাহরিয়ার ইমন। এটি এবারের আসরে বাংলাদেশের প্রথম গোল।
তবে বাংলাদেশের গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এক মিনিটের মধ্যেই ফের গোল করে ইন্দোনেশিয়া। রমনির কাটব্যাক থেকে পাওয়া বলে নিজের তৃতীয় গোল পূর্ণ করেন লি বেকার। ৪২ মিনিটে হেডে আরও একটি গোল করেন বেকার। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে হেডে গোল করে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবধান ৬-১ করেন জাস্টিন হাবনার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুইটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। সুকির বদলে ফারহান আলী ও ইমনের বদলে মিনহাজ মাঠে নামেন। চোটের কারণে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হওয়া শমিত সোমের জায়গায় নামেন সোহেল রানা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা গুছিয়ে খেলে বাংলাদেশ। ৬০ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো গোল হজম করেনি তারা; সেটিই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ গোলবিহীন সময়।
তবে ৬০ মিনিটের পর ফের গোলের দেখা পায় ইন্দোনেশিয়া। লুক বিকারি করেন তাদের সপ্তম গোল। ৭৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়া আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মেহেদী হাসানের দারুণ সেভে তা ঠেকিয়ে দেয় বাংলাদেশ। মিনহাজকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইন্দোনেশিয়ার এলকান ব্যাগোট। সম্ভাব্য লাল কার্ডের বিষয়টি ভিএআর পর্যালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। এরপর ইন্দোনেশিয়া আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
৯০ মিনিট শেষে দুই মিনিট যোগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আরও দীর্ঘ সময় খেলা হয়। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল করেন ফারহান আলী।
এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়া আবারও গোলের উৎসবে মাতে। কেভিন ডিকস যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এবং লি বেকার সপ্তম মিনিটে গোল করলে ইন্দোনেশিয়ার জয় ৯-২ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়।
শেষ বাঁশি বাজার পর ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড়েরা উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বাংলাদেশ অধিনায়ক হামজা চৌধুরীর মধ্যেও; কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসা ইন্দোনেশিয়া নিশ্চিত করেছে আসিয়ান কাপের ফাইনাল।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর