July 25, 2026, 1:09 am

ঈশ্বরগঞ্জে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

Reporter Name
  • আপডেট Friday, August 4, 2023
  • 134 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ :: আমারে চিনস? আমি রাশিদ এ পর্যন্ত তিনজনকে খুন করে শুয়ে দিয়েছি, তুই রাস্তার গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের ডিএফওকে ফোন করছ। আমি তোরে খুন করব। তোর পরিবারসহ শায়েস্তা করে ফেলব।’এসব বলে হুমকি দেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে। তিনি উপজেলার চরশিহারী (বড়বাড়ি) এলাকার মোহাম্মদ আলীর পুত্র ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি। এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ ওরফে রাশিদ জানান, আমি আমার ফোন দিয়ে কোনো হুমকি দেই নাই।

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা সড়কে সাধারণ মানুষের গাছ কেটে নিচ্ছে রাশিদ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম তালুকদার মঞ্জু লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- আব্দুর রশিদ ওরফে রাশিদ তার রোপিত ২৫-২৬টি ফলজ গাছ কেটে নিয়েছেন। ডা. নুরুল ইসলাম তালুকদার মঞ্জু এ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুম্বাইল গ্রামের মৃত একরাম হোসেন তালুকদারের পুত্র।

অপরদিকে আরেক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন পাইকুড়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের পুত্র শাহবুদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন বলেন-তার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে তাদের রোপিত ১২টি কাঁঠাল গাছ কেটে নিয়েছেন। এছাড়াও অভিযোগ করেন পাইকুড়া গ্রামের আজিম উদ্দিন, চরপুম্বাইলের মাহমুদ আলী, আব্দুল গফুর, বড়হিত গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, বাচ্চু মিয়া, নজরুল ইসলাম। তারা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে বনবিভাগের মার্কিং ছাড়াই ও জোরপূর্বকভাবে আমাদের গাছ কেটে লুট করা হচ্ছে। অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না।এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক ও ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মো. আবদুর রশিদ ওরফে রাশিদ বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ-উচাখিলা সড়কের দুই পাশের মার্কিং করা সরকারি গাছগুলোর টেন্ডার পান ময়মনসিংহের ঠিকাদার ওবায়দুল হক। মার্কিং করা ছাড়াও রাস্তার দুই পাশের সাধারণ মানুষের রোপণকৃত গাছপালা কেটে নিতে দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল হক জানান, আব্দুর রাশিদ আমার ফোন দিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি সরকারিভাবে গাছের টেন্ডার পেয়েছি। টেন্ডারে প্রাপ্ত গাছগুলো মো. আবদুর রাশিদের নিকট বিক্রি করা হয়েছে। কিছু গাছের ডালপালা কাটা হলেও গাছ কাটা শুরু হয়নি। আর রাশিদ যে গাছ কেটেছে, সেগুলো তার নিজের গাছ।সড়কের সাধারণ মানুষের ১৬টি গাছ অবৈধভাবে কাটার সত্যতা স্বীকার করেন রেঞ্জ অফিসার লুৎফর রহমান। তিনি জানান, মার্কিংকৃত সরকারি কোনো গাছ কাটা হয়নি। কাটার অনুমোদনও দেওয়া হয়নি এরপর ওবায়দুল হককে প্রশ্ন করা হয় বড়হিত উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলো কার? এ প্রশ্নের পরই ঠিকাদার ওবায়দুল হকের মোবাইল ফোনে কথা বলেন আব্দুর রশিদ ওরফে রাশিদ। কথার শুরুতেই অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বারবার শালীনতা বজায় রাখার কথা বললেও আব্দুর রশিদ (রাশিদ) তা না মেনে হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। এরপর ৩১ জুলাই দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে আবদুর রশিদ ওরফে রাশিদ একটি মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদকে বলেন, ‘আমারে চিনস? আমি রাশিদ এ পর্যন্ত তিনজনকে খুন করে শুয়ে দিয়েছি, তুই রাস্তার গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের ডিএফওকে ফোন করছ। আমি তোরে খুন করব। এখন সামনে থাকলে তোর ঠ্যাং ভেঙে দিতাম। সাংবাদিকতা কেমনে করছ, দেখতাম। তোর চৌদ্দগোষ্ঠী ঠিক করে ফেলব, তোর পরিবারসহ সবাইকে দেখব, তোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও দিব।’

এ বিষয়ে পরিবার ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। আবদুর রাশিদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ পিএসএম মোস্তাছিনুরে রহমান বলেন, বুধবার রাতে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আব্দুর রশিদ ওরফে রাশিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা, একটি বিস্ফোরকসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর