মোঃ জাফর আলী:: আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুরের টঙ্গীতে নূর ইসলাম হত্যা মামলার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তারা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর বাজার এলাকায় এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত নূর ইসলামের দুই কন্যা, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। সমাবেশে নিহতের দুই কন্যা তাদের বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, বাবাকে হারিয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ববিরোধের জেরে নূর ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নূর ইসলামকে গোপালপুর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে টঙ্গী নদীবন্দরসংলগ্ন ইটখোলা এলাকায় নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন—টঙ্গীর পাগাড় এলাকার মৃত আলম খানের ছেলে নূর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবু (৩৮), একই এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে তরিকুল ইসলাম জিহাদ (২৩), ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার বালিয়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে মামুন (২৬) এবং রংপুরের কাউনিয়া থানার হারাগাছ গ্রামের মৃত লাবলু মিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান জনি (২৮)। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মামলার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তারা। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নিহতের স্বজনরা দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। নিহতের পরিবারের প্রশ্ন, হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার সব আসামি এখনো কেন গ্রেপ্তার হয়নি? দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।