মো: আক্তার হোসেন ডালী:: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুরে নুরুল ইসলাম (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় নিহত নুরুল ইসলামের দুই মামা, বোন ও তাঁর দুই কন্যাসন্তান উপস্থিত ছিলেন। বাবাকে হারিয়ে সদ্য কলেজে ওঠা ও কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া দুই শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারা অঝোরে কেঁদে বাবার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল ইসলামকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গোপালপুর সোসাইটি মাঠ এলাকায় নিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নুরুল ইসলামের পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির সামনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন মোছা. নুরজাহান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রতিবাদ সভায় নিহতের মামা শানু ও শাহাদাত অভিযোগ করেন, মামলা করতে গিয়ে তাঁরা পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, হত্যার আগের দিন অস্ত্র প্রদর্শন করে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের কয়েকজন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় নিহতের পরিবার ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর নিহতের বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এজাহারভুক্ত তিনজন ও তদন্তে পাওয়া একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, নুরুল ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।