শারমিন খানম:: শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা হেলাল কিরণ দীর্ঘ প্রায় ১৭বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেভাবে তিনি ও তাঁর পরিবার নানা প্রতিকূলতা ও কষ্ট সহ্য করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মোস্তফা হেলাল কিরণ শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপিকে একাই আগলে রেখেছিলেন। অথচ আজ তাঁকে বিনা দোষে কারাগারে যেতে হয়েছে। তাঁর পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে কিছু স্মৃতি না বললেই নয়। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে কখনো শান্তিতে নিজের ঘরে ঘুমাতে দেয়নি। জাতীয় নির্বাচনের সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে প্রতিদিন তার বাড়িতে অভিযান চালাতো। কিন্তু তিনি পুলিশের ভয়ে দিনরাত খেয়ে না খেয়ে জঙ্গলে-ধানখেতে দিন কাটাতে হয়েছে। এই কষ্টের সাক্ষী শুধু পরিবারের সদস্যরাই। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বাবাকেও অনেক লাঞ্ছনা ও অপমান সহ্য করতে হয়েছে।
রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে তখন কোন নেতাকর্মীকে পাওয়া যায়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াতো। তখন রাতের অন্ধকারে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকার জন্য নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা ও সাহস জুগিয়েছি। এমনকি তখন অনেকেই দল ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, সেই কঠিন সময়েও তিনি ও তাঁর পরিবার বিএনপির পাশে থেকেছেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকারের পতনের পর চারদিকে যখন লুটপাট, জমি-দোকান দখলের মতো ঘটনা ঘটছিল, তখন প্রতিশোধের পথে না গিয়ে তিনি বরং নিরপরাধ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হয়েছেন।
গত দুই বছরে দলে নতুন অনেকের আগমন ঘটেছে, যাদের কারও কারও মধ্যে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার লোভ বাড়তে দেখা গেছে—যা তাঁর উপস্থিতির কারণে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ধীরে ধীরে তাঁকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, এবং সবশেষে একটি পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল মহোদয়ের কাছে মোস্তফা হেলাল কিরণের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, দলের দুঃসময়ের একজন ত্যাগী নেতাকে বিনা অপরাধে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আগামীতে দলের দুঃসময়ে কেউ সর্বস্ব ত্যাগ করে দলের পাশে দাঁড়াতে সাহস পাবে না।