July 24, 2026, 6:46 pm

বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

Reporter Name
  • আপডেট Friday, July 24, 2026
  • 14 জন দেখেছে

স্পোর্টস ডেস্ক :: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।
ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’
চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’
ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’
অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’
সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।
আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর