June 18, 2026, 5:06 pm

গাজীপুর পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, June 18, 2026
  • 18 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মঘণ্টার শুরুতেই একের পর এক শ্রমিক মাথা ঘোরা, বমি ও অচেতন হওয়ার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হলে তাদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করার পর শ্রমিকদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর তারা কারখানার পানির সরবরাহ থেকে পানি পান করেন। কিছুক্ষণ পর প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত একই ধরনের উপসর্গ অন্যান্য ফ্লোরেও ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অনেকে জানান, হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, শারীরিক দুর্বলতা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা দ্রুত আক্রান্তদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
অসুস্থ শ্রমিকদের বেশিরভাগই নারী বলে জানা গেছে। অনেককে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, আবার অনেকে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকজনকে কারখানার ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জরুরি ভিত্তিতে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর শ্রমিকদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা শুরু হয়েছে। পানি বা অন্য কোনো উৎস থেকে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারখানা এলাকা ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর