June 18, 2026, 5:13 pm

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে সমঝোতা স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, June 18, 2026
  • 11 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত এবং ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বুধবার (১৭ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বাঘাই জানান, চুক্তিটি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পাঠ্য চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তিটি বাস্তবায়নের পরীক্ষা নেওয়ার সময়।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ সুগম করবে। যেহেতু চুক্তিটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পূর্বনির্ধারিত কোনো স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে উভয় দেশের আলোচনা দল জেনেভায় উপস্থিত থাকবে। তাদের মধ্যে সশরীরে কোনো বৈঠক হবে কি না, তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে। আপাতত মুখোমুখি বৈঠকের পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে বলে জানান বাঘাই।
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়া হলেও, আল জাজিরার সংবাদদাতা মাইক হানা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হানা সতর্ক করে বলেছেন, এই সমঝোতা স্মারকটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল অংশ ট্রাম্পের ওপর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল।
মাইক হানা বলেন, জনসম্মক্ষে এই সমঝোতা স্মারকের যে রূপরেখা প্রকাশ পেয়েছে, তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকানদের মধ্যেই অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন ইরানের প্রতি নরম মনোভাব দেখানো হয়েছে। অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং পরবর্তী আলোচনার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। মার্কিন জনগণকে এটি বোঝাতে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পরাজয় নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তীব্র লড়াই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতেই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। সমঝোতা স্মারকটি প্রকাশের পর ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
মার্কিন সূত্র মতে, এই সমঝোতা স্মারকটি কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠনের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি জ্বালানি রপ্তানির ওপর ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ইরান এই চুক্তিকে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সকে বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার একটি দলিল। জনগণ এটি দেখবে এবং বিচার করবে।
গালিবাফ আরও স্পষ্ট করে বলেন, ৬০ দিনের আলোচনা শেষেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান এখন থেকে শুল্ক বা ফি আদায় করবে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, হরমুজ প্রণালী কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না। এই প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব রয়েছে এবং সেবামূলক কাজের জন্য আমরা অবশ্যই ফি গ্রহণ করব। তবে দুই পক্ষই স্পষ্ট করেছে, এই সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আল জাজিরার সংবাদদাতা হানা জানান, ৬০ দিনের আলোচনা সফলভাবে শেষ হলেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেবে। অন্তত দুই পক্ষের ইচ্ছা তেমনই।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর