June 17, 2026, 7:34 pm

ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির জন্য চুরি হওয়া শত শত বিড়াল উদ্ধার

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, June 17, 2026
  • 9 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভিয়েতনামে জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এমন ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির কর্তৃপক্ষ একটি কথিত বিড়াল চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এই প্রাণীগুলো উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা। হো চি মিন সিটি পুলিশের সরকারি পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। তবে বিক্রেতাদের প্রাণীগুলোর উৎস প্রমাণ করে এমন অনুমতিপত্র থাকতে হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে পোষা প্রাণী চুরির একাধিক ঘটনার তদন্তের পর ১১ জুন পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে গত তিন বছর ধরে তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে সংগ্রহ করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, চুরি করা বিড়ালগুলো প্রথমে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো, পরে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালের মধ্যে প্রায় ৪০টি এরই মধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি প্রাণীগুলোর জীবন রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, নির্যাতন ও দুর্ভোগের কারণে উদ্ধার করা কিছু বিড়াল পরে মারা গেছে। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় যেসব প্রাণী এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, তাদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছে সংস্থাটি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যাদের পোষা প্রাণী চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ, তাদের উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালসের তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি, পাচার ও জবাই করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, অনেক ক্ষেত্রে পোষা প্রাণী সরাসরি বাড়ি থেকে চুরি করা হয়। কুকুর ধরতে বিষমিশ্রিত খাবার, টেজার ও লোহার চিমটা ব্যবহার করা হয়, আর বিড়াল ধরতে ব্যবহার করা হয় স্প্রিংযুক্ত ফাঁদ। যদিও ভিয়েতনামে এখনো কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, তবে প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, জনমত ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর