June 13, 2026, 12:37 am

সীমান্ত অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে একমত বিজিবি-বিএসএফ

Reporter Name
  • আপডেট Friday, June 12, 2026
  • 5 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা আরো জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথ টহল, নজরদারি এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) এক প্রেস রিলিজে শুক্রবার (১২ জুন) এ তথ্য জানানো হয়। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনটি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া মানবপাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবেলার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের বিষয় এবং সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ সম্পর্কেও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত এলাকায় আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সীমান্তে উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ একমত হয়। সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ লক্ষ্যে যৌথ টহল কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা, নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে দুই বাহিনী সীমান্তবর্তী অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স)-নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং পেশাগত সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
১১ জুন যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে চার দিনের এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করবে এবং ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে। পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আগামী নভেম্বর ২০২৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর