স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত চারজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পৌরসভার ৪ নম্বর ওর্য়াডের বৈরাগিরচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন, আসাদুল ইসলাম, নাজমুল হক, সামিয়া আক্তার, সিরাজুল ইসলাম (শারীরিক প্রতিবন্ধী) , আবু বক্কর সোহান ও ওমর ফারুক জিদান, ছাইফুল ইসলাম, আছিম উদ্দিন ও মো. সুজনসহ অন্তত ২০ জন।
প্রায় চার বিঘা জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আজ দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় বিকেলে উভয় পক্ষ থেকে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । তবে সংঘর্ষ শুরুতেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯- এ ফোন দিলেও পুলিশ মারামারির কমপক্ষে সাত ঘন্টা পড়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ নিয়ে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা । তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে দেরি হয়েছে। তাদের দাবি, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে । দু’পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন বৈরাগিরচালা গ্রামের মো. আজহারুল ইসলাম। অপর অভিযোগের বাদী হলেন রাজধানীর মিরপুরের আফরিন আলম নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বর্তমানে বৈরাগিরচালা গ্রামেই বাস করছেন।
অভিযোগকারী আজহারুল ইসলামের দাবি, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই জমির ভুয়া দলিল করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন আফরিন আলম ও তার সহযোগীরা। দখলে বাঁধা দেওয়ায় দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা করে মারধর করা হয়। হামলার সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আফরিন আলমের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালায়। এ সময় জমি দখল করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। এক সময় তাদের লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে আফরিন আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,আমাদের নিজস্ব ও কেনা জমিতে সুরক্ষার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ সময় আমাদের ওয়াল নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করা অবস্থায় আজহারুল ইসলাম তাদের লোকজন নিয়ে দেশি অস্ত্রসহ আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণ করা আমাদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে তারা। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমমোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে ২০২২ সালে ১২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি। জমিটি তার দখলে আছে। একটি মামলায় কোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিয়েছে। হঠাৎ আজহারুল ইসলাম অবৈধভাবে সে জমি তাদের বলে দাবি করেন। দখলের চেষ্টাও করেন।বাদী আজহারুল ইসলামের স্বজন মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম জানান, তাদের ওপর হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯- এ কল দেওয়া হয়েছে। হামলার ৭ ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার এসআই আবু রায়হান বলেন, আমরা ৯৯৯ -এ ফোন পেয়ে দ্রুত সময়ে রওনা করেছিলাম। অভিযোগকারীর মোবাইলে অনেকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কেউ ফোন ধরেন নি। তাতে আমাদের পৌঁছাতে অসুবিধা হয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আবুল ফজল মোহাম্মদ নাসিম জানান, ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া অভিযোগকারীর ঘটনাস্থল শনাক্ত অসুবিধা হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুই পক্ষই মারামারি করেছে। দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।