নিজস্ব প্রতিবেদক:: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে গাজীপুর প্রেসক্লাব। ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর প্রেসক্লাব ভবনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ১০০ সদস্যের ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচনী তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদ রানা এবং নির্বাচন কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম জিতু ও মোঃ বায়েজীদ হোসেন স্বাক্ষরিত তফসিলে নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপ ও সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ৫ ও ৬ অক্টোবর প্রেসক্লাব ভবন থেকে মনোনয়নপত্র ও ভোটার তালিকা বিতরণ করা হবে। ৮ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১২ অক্টোবর একই সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। এরপর ২৯ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচনে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, দফতর সম্পাদক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণ সম্পাদক এবং সাতজন নির্বাহী সদস্যসহ মোট ১৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রার্থীদের প্রচারণার ক্ষেত্রে রঙিন পোস্টার ও স্টিকার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রেসক্লাব ভবনের ভেতরে কিংবা বাইরের দেয়াল, দরজা-জানালায় কোনো ধরনের পোস্টার, লিফলেট বা স্টিকার লাগানো যাবে না। প্রেসক্লাবে প্রবেশে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে রশিতে ঝুলিয়ে প্রচারসামগ্রী প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালানো যাবে না। ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা চালাতে পারবেন,তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার বা অপপ্রচার চালানো যাবে না। ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সভাপতি পদে ১০ হাজার টাকা, সিনিয়র সহ-সভাপতি ৮ হাজার, সহ-সভাপতি ৬ হাজার, সাধারণ সম্পাদক ৮ হাজার ৫০০, যুগ্ম সম্পাদক ৫ হাজার, সাংগঠনিক সম্পাদক ৪ হাজার ৫০০, কোষাধ্যক্ষ ৪ হাজার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ৩ হাজার ৫০০, দফতর সম্পাদক ৩ হাজার ৫০০, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণ সম্পাদক ৩ হাজার ৫০০ এবং নির্বাহী সদস্য পদে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র কেনার অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। ব্যালট পেপারে বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে প্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রথম আলোর গাজীপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানা। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন দ্য মর্নিং গ্লোরি পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি মোঃ শফিকুল ইসলাম জিতু ও দৈনিক নরস পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি মোঃ বায়েজীদ হোসেন।
তফসিল ঘোষণার পর গাজীপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেককে নোটিশ বোর্ডে উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকা দেখতে দেখা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে আলোচনা, মতবিনিময় ও সমর্থন আদায়ের প্রস্তুতি। বিশেষ করে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-তা নিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এখন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ধাপ অতিক্রম করবে নির্বাচনী কার্যক্রম। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৯ অক্টোবরের ভোটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর গাজীপুর প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত তফসিল ও আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গাজীপুরের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও নতুন গতি ফিরবে।