নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুর মহানগরীর গাছা ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ এর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্য করার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি-এর তোয়াক্কা না করে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাজ থেকে খাস খতিয়ান, নামজারি (খারিজ) এবং খাজনা আদায়ের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভূক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, মানুষ যখন তাঁদের বৈধ জমির নামজারি বা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে অফিসে আসেন তখনই শুরু হয় বিভিন্ন অজুহাত ও টালবাহানা। কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও ফাইল আটকে রাখা হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ। পরবর্তীতে কোনো মাধ্যম বা ইউসুফের বিশ্বস্ত দালাল চক্রের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত ‘অঘোষিত ফি’ বা ঘুষ দিলেই কেবল নড়েচড়ে বসে ফাইলের পাতা। আর তা না দিলে ‘কাগজে ভুল আছে’, ‘সীমানা সমস্যা আছে’ কিংবা ‘রেকর্ড ঠিক নেই’—এমন অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষদের হয়রানি করতে থাকেন দালাল চক্রের সাথে জড়িত মজিবুর ও জহিরুল সহ আরো অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, গাছা ভূমি অফিসে খারিজের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের জন্য সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করেন। কিন্তু আমি অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার ফাইলটি প্রায় দুই মাস আটকে রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দেয়া মাত্রই দুই দিনের মধ্যে আমার কাজ করে দেন শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি এই ভূমি অফিসে গড়ে তুলেছেন একটি দালাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাতে ‘চুক্তির টাকা’ না পৌঁছালে কোনো ফাইলই সহকারী কর্মকর্তার টেবিলে আসে না। মহানগরীর গাছা এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল জমির মিউটেশন বা রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে এই ঘুষের টাকা এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত। যেসব জমিতে সামান্য বিরোধ বা জটিলতা রয়েছে সেগুলোকে নিজের আয়ের বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। দুই পক্ষের কাছ থেকেই গোপনে রফা করে সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। এর ফলে মূল স্বত্বাধিকারীরা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি ভূমি সেবা নিয়ে সরকারের ডিজিটাল ও স্বচ্ছ উদ্যোগগুলো মাঠ পর্যায়ে এসে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোঃ ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও চক্রান্তমূলক বলে দাবি করেন।
তবে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর এমন বেপরোয়া দুর্নীতি ও হয়রানি করায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা এই ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এইসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।