September 20, 2026, 7:01 pm

রাউজানে যুবদলকর্মী হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই : এসপি মাসুদ

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, September 8, 2026
  • 41 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এসপি মো. মাসুদ আলম।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে করিমকে হত্যা করা হয়। স্থানটি প্রত্যন্ত এলাকায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিমকে ঘিরে ধরে সন্ত্রাসীরা। ৪-৫টি মোটরসাইকেলে এসে একদল সন্ত্রাসী বাজারে ঢুকতেই করিমকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রথমে কিরিচ দিয়ে ঘাড়ে ও মাথায় কোপানো হয়, পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকেরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান সম্পর্কেও তথ্য দেন। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একজন চিকিৎসক পুলিশকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, একটি সন্ত্রাসী চক্র ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে তাকে বার্তা পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে রোগী সেজে তার চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় বলে জানান এসপি। অভিযানে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থাকেন বলে জানান এসপি। তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর