July 21, 2026, 7:52 pm

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, July 21, 2026
  • 5 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গত বছর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার স্মরণে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক ভাবগম্ভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত সেই ভবনের সামনে নির্মিত বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই স্মরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শোক ও স্মৃতির এই দিনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যরা নীরবতা পালন করেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।
এ প্রসঙ্গে মাইলস্টোনের একজন শিক্ষিকা বাংলানিউজকে বলেন, ট্রমা কাটিয়ে উঠতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল।
ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠেছে। এসময় শিক্ষিকা ফারজানা কাবেরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি সেদিন ক্লাসরুমের ভেতরেই ছিলাম।
হায়দার আলী ভবনটি প্রাইমারি সেকশন ও বাংলা ভার্সনের জন্য ছিল। আমি ছুটি দিয়ে বের হইনি। ছাত্রদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। ঘটনার মাত্র এক মিনিট আগে মাহরিন মিসের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘মিস, কয়েকজন বাচ্চা বিজ্ঞান বিষয়টি বুঝতে পারেনি, আমি একটু বুঝিয়ে দিই।’ তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, বোঝান।’ এরপর আমি স্কাই সেকশনের সামনে থেকে টিউলিপ-গোলাপ সেকশনে যাই, আর মাহরিন মিস স্কাই সেকশনেই ছিলেন।

আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আমি ও আমার এক ছাত্র সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে যাই। পরে উঠে তাকে বলি, ‘তুমি পেছনের দিকে দৌড়াও।’ অন্যদেরও বলি, ‘তোমরা সবাই পেছনের দিকে দৌড়াও।’ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মুহূর্তেই চারদিকে আগুন আর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। ওই দিনের কথা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না।
আমি কালেমা পড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমার বাচ্চাগুলো বলছিল, ‘মিস, কিছু করেন! আমাদের বাঁচান!’ কিন্তু চারদিকে আগুন। আমি ওদের বলেছিলাম, আমরা যেকোনো একদিকে দৌড়াব। গায়ে আগুন লাগলেও হয়তো বেঁচে যাব। কিন্তু স্কাই সেকশনের দিকে তাকিয়ে দেখি আগুনের দেয়ালের মতো। ওই দিক দিয়ে বের হওয়ার আর কোনো পথ ছিল না। তখন বাচ্চারা বলল, ‘মিস, বের হতে পারব না।’ আমি বললাম, ‘আল্লাহকে ডাকো।’ আল্লাহই হয়তো তাঁর রহমতে আমাদের বাঁচিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবী জানান, বিকেলে বেশ কিছু আয়োজন রয়েছে, যেখানে ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত থাকবেন। এ সময় তিনি আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর