স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা-কার (রেসিং কার) যাচ্ছে চীনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। একদল শিক্ষার্থী ৩ বছর চেষ্টার পর ফর্মুলা-স্টাইল কার তৈরি করেছেন। আগামী মাসে শিক্ষার্থীদের নিজের ডিজাইনে তৈরি এ কার চীন দেশে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে। যেখানে রাশিয়া, ইতালি, চীনসহ ১৪টি দেশ প্রতিযোগিতা করবে। সফলভাবে তাদের এই গাড়ি তৈরিতে আনন্দিত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিযোগিতাটি আগামী ৮–১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চীনের হেনান প্রদেশের ঝেংঝো শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বসিত এ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা। ৭০ জন শিক্ষার্থীর তিন বছরের সাধনায় নির্মিত রেসিং কারটি ইঞ্জিন ব্যতীত সব উপাদান বাংলাদেশে তৈরি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফর্মুলা-কার গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে কেটিএমের ৩৯০ সিসি ইঞ্জিন (৩২ কিলোওয়াট, ৩৫ নিউটন-মিটার টর্ক), স্টেইনলেস স্টিল ওয়েল্ডেড স্পেসফ্রেম চ্যাসিস, ডাবল এ-আর্ম সাসপেনশন এবং ৯১ অকটেন জ্বালানি। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১৮১ মিলিমিটার, প্রস্থ এক হাজার ৪০৯ মিলিমিটার এবং উচ্চতা এক হাজার ৩৯ মিলিমিটার। আইইউটির মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের এ দলটি যাত্রা শুরু করেন ২০২১ সালে। ইতোমধ্যে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ফর্মুলা ভারত ২০২৩ (কনসেপ্ট ক্লাস)-এ ৩য় স্থান এবং ফর্মুলা ইম্পেরিয়াল ২০২৪-এ ৭ম স্থান অর্জন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল প্রতিভাদের সমাগম ঘটবে ফর্মুলা স্টুডেন্ট চায়না প্রতিযোগিতায়, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দলগুলো নিজেদের ডিজাইন করা ফর্মুলা-স্টাইল রেস কার তৈরি ও প্রদর্শন করবে।
শিক্ষার্থী ও টিম লিডার আনসানুল আমীন বলেন, এবার আমরা প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নিচ্ছি ফর্মুলা স্টুডেন্ট চায়না (এফএস চায়না) যা এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতা। আমাদের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করে অভিজ্ঞতা অর্জন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেরা দলের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি তৈরি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই আমাদের লক্ষ্য। ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষার্থী-ভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। সেখানে গাড়ির গতি নয়, ডিজাইন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও টেকসই প্রযুক্তিও বিচার করে প্রতিযোগীদের স্থান নির্ধারণ করা হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল এটি।
মেকানিকাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আহসান হাবিব বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সফলতা অর্জন করেছে। চলতি মাসেই তারা সফল হয়েছে। এখন গাড়িটি প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তারা দেশের বাহিরে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে, এটি যেমন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বাড়াবে, তেমনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য গৌরবের।