আব্দুল কাদের :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝখানে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আজ শনিবার সকাল ১১টায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার মালিক-শ্রমিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক। এই হাইওয়ের মাঝখানে একটি অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং আশপাশের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টঙ্গী শিল্প এলাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এ এলাকায় শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং, সিরামিকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এর আশপাশে রয়েছে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা।
সেগুলো হচ্ছে-যমুনা এ্যাপারেলস্ লি:, নোভিস্তা ঔষধ শিল্প কারখানা, ম্যাটসি প্যাকেজিং লি:, ফেমাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লি:, ন্যাশনাল টিউব ও বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার মেরামত কারখানা, ঢাকা স্টিল মিল জামে মসজিদ, ঢাকা স্টিল মিলস লি:, পিপলস সিরামিকস, লিরা পাইপ ফিটিংস কোম্পানি লি:, কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়, সিএনজি ও এলপিজি স্টেমন, টঙ্গী প্রেসক্লাব ও জনসাধারণের ব্যবহৃত এটিএম বুথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
এখানে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে যেসকল ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ১। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি, ২। রোগজীবাণুর বিস্তারের আশঙ্কা, ৩। শ্রমিক ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব, ৪। রপ্তানিমুখী শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, ৫। সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট, ৬। সিএনজি, এলপিজি স্টেশন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, ৭। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ।, ৮। এটিএম বুথ ও জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা, ৯। শিল্পাঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া।
তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হাইওয়ের মাঝখানে চেরাগআলী এলাকায় প্রস্তাবিত (বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র) নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি অধিক উপযুক্ত বিকল্প স্থানে স্থানান্তর ও স্থায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এছাড়াও আমরা আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পক্ষে। তবে তা অবশ্যই জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত শিল্প উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।