September 20, 2026, 7:01 pm

ফ্যামিলি কার্ড, নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষায় নরওয়ের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, September 8, 2026
  • 26 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নরওয়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থান, নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি হস্তশিল্প ইউরোপের বাজারে রপ্তানি এবং ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নেও দেশটির কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ও আলোচনায় আসে।
এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্প, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম আধুনিক ও শক্তিশালী করাসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের ‘নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে নরওয়ে সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূলের নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের দুর্ভোগ কমাতে দেশব্যাপী ডে-কেয়ার কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে গত দুই বছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুগত ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান। ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারী অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। প্রতি পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়া হবে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো খরচ নয়, এটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে দক্ষ কেয়ার গিভারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। এক্ষেত্রে নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে দেশটির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। বৈঠকের একপর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চান মন্ত্রী। এ বিষয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর