নিজস্ব প্রতিবেদক:: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে এখনো রক্ত দিতে হচ্ছে, প্রাণ দিতে হচ্ছে। তবে আর যাতে কেউ শিকল পরাতে না পারে, সে জন্য শিকলমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও জানান মন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকেরাই মূলত শিকল ভাঙার যে পর্ব এবং যার যার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্টতা এবং অভিষ্ট লক্ষ্য, সে বিষয়ে সামান্য কিছু বলার চেষ্টা আমরা করেছি। আপনাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার কারণটা হচ্ছে আপনাদের মাধ্যমে জাতির কাছে এই দিবসকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার যে প্রয়াস সেটাকে সম্প্রচারে নিয়ে যাওয়া, যুক্ত করা, জানানো।
আমাদের দেশের বয়স হয়ে গেছে ৫৫ বছরের বেশি, অথচ শিকল ভাঙতে হচ্ছে এখনো আমাদের। একটা স্বাধীন দেশ এবং তার মালিক জনগণ এবং তার কণ্ঠ, তার অধিকার এবং তার সৃষ্টিশীল ক্ষমতা তাকে বারবার শিকলে বাঁধা হচ্ছে। এবং এই শিকলবদ্ধতার কারণেই আমাদের দেশ, জাতি তার কাঙ্ক্ষিত যে অর্জন, সেটি সম্পন্ন করতে পারছে না। বারবারই এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে আমাদের রক্ত দিতে হচ্ছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে। সমৃদ্ধির যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়াকে আমাদের ব্যাহত করতে হচ্ছে বারবার। অথচ পৃথিবীর এমন দেশ আছে, যারা লাগাতারভাবে তাদের সমৃদ্ধির পথ প্রবহমান রাখতে পারার কারণেই পৃথিবীর প্রধান প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে। ফলে যেকোনো দেশের জন্য তার আর্থসামাজিক সমৃদ্ধির প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে রক্ষা করাটা হচ্ছে জন্মের পর থেকেই তার প্রধান লক্ষ্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে আমরা কাজটি করতে পারিনি। এবারের এই শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না। আর যেন কখনোই শিকল পরাতে কেউ না পারে, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।
তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে এবারের আন্দোলনের পার্থক্য এখানেই। অতীতের আন্দোলনে কেবলই প্রতিক্রিয়া ছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া, তার বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষ, জনক্ষোভ, জনবিক্ষোভ, সেই ক্ষোভ বিক্ষোভে রূপান্তরিত হয়েছে গণঅভ্যুত্থানে, গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা নতুন প্রেক্ষিত তৈরি হয়েছে, আবার তা লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে এসেছে।
আমাদের সরকার, আমাদের নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমরা এ ব্যাপারে সজাগ আছি বলেই কিন্তু আমরা ফ্যাসিবাদকে হটানোর জন্য, শিকল ভাঙার জন্য যখন গান গেয়েছি, আমরা তখনো কিন্তু দেশ গড়ার জন্য চিন্তা করেছি। তা মানুষকে জানিয়েই করেছি। এবং আমরা চিহ্নিত করেছি যে অর্জিত প্রাণ এবং রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই বিজয়কে আমরা যদি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই, তাহলে এই পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে পারা যাবে না। সে কারণে একদিকে যেমন শিকল ভাঙার কথা বলেছি, অপরদিকে রাষ্ট্রকাঠামোকে আমরা মেরামত করার কথা বলেছি, রাজনীতিকে মেরামত করার কথা বলেছি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলি আমাদের ৩১ দফায় এবং আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে তুলে ধরেছি।
সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, অতীতে কখনোই আন্দোলন-সংগ্রামের আগে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল এই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। এমনকি আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও কখনোই এরকম লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল না। ছিল না বলেই কিন্তু ১৯৭১-এর রাজনৈতিক সংগ্রাম যখন লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছিল, তখন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বাঙালি মেজরকে। তাকেই বলতে হয়েছে ‘উই রিভোল্ট’, আমি মেজর জিয়া বলছি। এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের এই লক্ষ্যহীন তৎপরতার বিপরীতে এবারের যে শিকল ভাঙার আন্দোলন, সেই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে শিকল ভাঙার পরে আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই বলেছেন। এবং আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছি।