মোঃ আক্তার হোসেন ঢালি: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক আন্দোলন ও অস্থিরতার নেপথ্যে অর্থের জোগানদাতা কারা—তা অনুসন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকসহ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় এসেছে।
৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও সেপাল গ্রুপের টিপু মুনশি, এনভয় গ্রুপের সালাম মুর্শেদী, মণ্ডল গ্রুপের আবদুল আলীম মণ্ডল, গিভেন্সি গ্রুপের মাসুমা খাতুন লিপা এবং স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের প্রকৌশলী এ কে এম মোশাররফ হোসাইন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যে আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ বিপু, তাজুল ইসলাম, ফয়জুর রহমান বাদল, আবদুস সালাম ও খসরু চৌধুরী।
এনবিআর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ জনের ব্যাংক হিসাব এবং ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অর্থের জোগান দিয়ে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বকেয়া বেতন ও কর্মক্ষেত্রে অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা বা নাশকতার অভিযোগ—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। তদন্তে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ স্থানান্তরের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থদাতা ও অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে কোনো রাজনৈতিক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যদি শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে অর্থের প্রকৃত উৎস, অর্থদাতা এবং অর্থ ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কী তথ্য বেরিয়ে আসে।