September 20, 2026, 8:26 pm

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 20, 2026
  • 22 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে। এরপর আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে ১৮তম সংশোধনী বিল আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চাই। প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আমরা আলাপ-আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করতে পারব বলে আশা করছি। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিল আকারে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে।
বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।
এর মধ্যে ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধি নিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি তাদের লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনও এই কমিটিতে অংশ নেয়নি।
সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর মধ্যে বাজেট বা অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে এবং অপচয় রোধে সরকার জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
এছাড়া দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের (উচ্চকক্ষ) রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০ সদস্য নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত। এটি সরাসরি জনপ্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচিত হবে না, বরং সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা এই উচ্চকক্ষের থাকবে না।
জুলাই সনদে কিছু দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যে বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করব।
বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংস্কার চায় না, মাঠে এমন অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।
সংবিধানের এই সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না, এসব ধারণা ঠিক নয়। সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনশীল গ্রন্থ নয়। সমাজের চাহিদা অনুসারে তা পরিবর্তিত হয়। কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তারা জনচাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো বিধান পরিবর্তন করতে পারবে। পৃথিবীর অনেক দেশে শতাধিকবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল যখন আসবে, তখন তারা সেখানে অংশ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর