ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:: ১৪ বছরের পিতৃহীন শিশু মিশকাতের একমাত্র জীবিকার সম্বল ছিল ইজি বাইকটি। যাত্রী সেজে সেই ইজিবাইকটিই ছিনতাই করে নিয়ে যায় একদল দুর্ধর্ষ ডাকাত। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা আন্ত জেলা দস্যু চক্রের মূল চার আসামিসহ মোট ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ইজি বাইক, মোবাইল ফোন ও টাকা। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত বাবার পর পরিবার চালানোর জন্য ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছরের শিশু মিশকাত ইজি বাইক চালানো শুরু করে। গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চারজন যাত্রী সেজে তার ইজি বাইকে ওঠে। পরে তারা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকার নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে মিশকাতের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ইজিবাইক এবং মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই ভিকটিমের চাচা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি দস্যুতার মামলা (মামলা নম্বর-৩৭) করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম সেল ও পুলিশের যৌথ দল কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ইজি বাইক ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. আকাশ সরদার ওরফে ডাকাত আকাশ, মো. জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও মো. আখতার মোল্লা (৪০)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল কেনাবেচায় যুক্ত আরও ছয়জন গ্রেপ্তার হন।
তারা হলেন— রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), মো. লিটন আলী (৫০), মো. সজীব শেখ (২৪), মো. মাসুদ রানা (৩২), মো. ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও মো. আশরাফুল ইসলাম (৪২)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মিশকাতের ছিনতাই হওয়া ইজি বাইক, ১টি লুণ্ঠিত মোবাইলসহ মোট ৮টি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা জেলায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতা চালিয়ে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।