নিজস্ব প্রতিবেদক :: টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতাকে হারুন অর রশিদকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন যাবত বিএনপির রাজনীতি করে আসছে। বর্তমানে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাজীপুর সিটির ৫০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন এবং বিএনপির গাজীপুর মহানগরের প্রথম কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। ওই কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার ও সোহরাব উদ্দিন। তিনি বিএনপি করেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে থাকা মামলার আসামি হওয়ায় অবাক হয়েছেন এলাকাবাসী।
ঢাকার বাড্ডা থানায় জুলাই ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এসএম নাজমুল আলম নামে এক ব্যক্তি। মামলায় বাদীর ঠিকানা দেখানো হয়েছে নাটোরের সিংড়ার জয়নগর। বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বাড্ডার আদর্শনগর। এই মামলার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নাম রয়েছে। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান কামাল। বাড্ডা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী নন তাদের কোনো অবস্থাতেই হয়রানি করা হবে না।
স্থানীয়রা জানান, টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া হত্যাসহ বেশ কিছু মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আলাউদ্দিন মিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর অধ্যক্ষ পদে শূন্যতা দেখা দেয়। কলেজের গভর্নিংবডি জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসহ সার্বিক বিবেচনায় কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে হারুন অর রশিদকে গত ১৯ মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইর্ষান্বিত হয়ে হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে মামলা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে কলেজটিকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে দিয়েছি। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু দোসর হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে। তিনি একজন বিএনপি নেতা পাশাপাশি আদর্শ শিক্ষক। আমি এই মামলা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।