নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকা টঙ্গী। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গীতে ১৯টি বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ৪৩টি ‘কিশোর গ্যাং’। মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ পুরো অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই। একেকটি দলে ১২ থেকে ১৫ জন করে সদস্য রয়েছে। টঙ্গীর পাগার, মধুমিতা, ভূঁইয়াপাড়া, জামাইবাজারসহ আশপাশের এলাকায় রয়েছে ছয়টি কিশোর গ্যাংয়ের দাপট। বিসিক ও নতুনবাজার এলাকায় আছে চারটি।
এরশাদনগরের আট ব্লকে আটটি এবং কলেজগেট, সফিউদ্দিন রোড, মুক্তারবাড়ি রোড এলাকায় আছে আরো পাঁচটি কিশোর গ্যাং। খাঁপাড়া, দত্তপাড়াসহ পুরো আউচপাড়া এলাকায় পাঁচটি ও বনমালা, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে আরো চারটি কিশোর গ্যাং দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাদক কারবারের জের ধরে গোপালপুর এলাকায় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। গত জুনে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে জনতার পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ভোরে টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মশিউর রহমান নামে এক পাশাককর্মী নিহত হন। একই বছর ডিসেম্বরে টঙ্গীর বাটা ফ্যাক্টরি এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সিদ্দিকুর রহমান, জুলাইয়ে নিহত হন মাহফুজুর রহমান নামে এক পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে ঘটা অপরাধের পেছনে রয়েছে কিশোর গ্যাং চক্র।
স্থানীয়দের মতে, এসব অপরাধে জড়িত প্রতিটি কিশোর দল বা বাহিনীর পেছনে এলাকার এক শ্রেণির ‘বড় ভাই’ রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মানুষকে হয়রানি, মারধর বা রাজনৈতিক মিছিলে এদের ব্যবহার করেন তাঁরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে না উঠলে এই কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সামর্থ্য অনুযায়ূী দায়িত্ব পালন করছি।’