April 27, 2026, 6:26 pm

টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী::
  • আপডেট Monday, April 27, 2026
  • 5 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। বয়সে দশ বছর বড় খালাতো বোনকে বিয়ে করার কথা বলায় বড় ভাই তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যা করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। তাই ঘটনাটি মাদক সংক্রান্ত নয় বলে জানিয়েছে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদকারী তদন্ত টিম। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) টঙ্গী পূর্ব থানার দায়িত্বশীল সূত্র  এই সংবাদ নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল রবিবার ভোরে স্থানীয় বনমালা এলাকায় বাবা ও ছেলের দুটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা প্রাইমারী স্কুল রোডের মোস্তফা দর্জির ছেলে মো: সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। এই ঘটনায় আটক নিহত সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)। নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরায় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেঁজগায়ে বেঙ্গল ফুড নামে একটি দোকানে চাকরিও করতেন। আটক সাইফুর রহমান একটি ঔষুধ কারখানায় কাজ করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭) তার থেকে ১০ বছর বয়সে বড় খালাতো বোনকে বিয়ে করতে চায়। এতে বড় ভাই সাইফুর রহমান সোহান (২৭) বাধা দেয়। খালাতো বোনকে বিয়ে করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের বাবা। এরই জের ধরে আসামি সোহান প্রথমে তার ছোট ভাই সাকিবুর রহমান শোয়েবকে (১৭) বেঁধে মুখে কাপড় গুজে হাতে পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। এরপর তার বাবা সোহেলকে ধরে রেললাইনে রেখে দিলে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি মারা যান। ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সোহান আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, তার বাবা মাদকের টাকার জন্য ছোট ভাইকে খুন করে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর পুলিশ গিয়ে দুটি লাশ উদ্ধার করে ও সন্দেহজনকভাবে সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই অবস্থায় গতকাল রাতে নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো: জিল্লুর রহমান বলেন, মেয়েলী সংক্রান্ত ঘটনায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছোট ভাইকে হত্যার পর তার বাবা মাদকে আসক্ত থাকায় সহজেই তাকে রেললাইনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় আসামি। আমরা আশা করছি, আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর