April 27, 2026, 6:25 pm

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন

Reporter Name
  • আপডেট Monday, April 27, 2026
  • 4 জন দেখেছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: ‎নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহতদের পরিবারের স্বজনরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান সরকারের নিকট হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে খুন হওয়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘২০১৪ সালে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তা দেশবাসী সবাই জানেন এবং দেখেছেন। নূর হোসেন নামের এক মাফিয়া কিভাবে টাকার প্রভাবে র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিল—সেই দৃশ্য দেখে সারাদেশের মানুষ কেঁদেছিল। পুরো জাতি তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
‎আজ হয়তো ভয়-ভীতি, মামলা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই সামনে আসতে সাহস পান না। কিন্তু আমরা তো আমাদের আপনজন হারিয়েছি। আমরা পরিবারগুলো ১২ বছর ধরে বুকভরা কান্না আর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। আমাদের একটাই দাবি—নজরুলসহ সাত পরিবারের এই নির্মম হত্যার বিচার যেন আমরা জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারি।’
‘‎আমরা জানতে চাই, কেন র‍্যাব সদস্যরা নূর হোসেনের কথায় এত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটালো? কেন সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিল? যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই মানুষ নিরাপত্তা না পায়, তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? র‍্যাবের ওপর যে কলঙ্কের দাগ লেগেছে, তা মুছতে হলে এই মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’
‎তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পাশে ছিলেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সে সময় দেশের মানুষও আমাদের পাশে ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসেছিলেন এবং বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। এখন আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং সাতটি পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।’
‎সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানাই—তারা যেন এই মামলার রায়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করেন। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রায় কার্যকর হবে।
‎উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ মোট সাতজনকে গুম করা হয়। তিনদিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি হত্যা মামলা করেন। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর