মো: জাফর আলী :: গাজীপুর মহানগরের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি ও মিক্তি বাড়ি রোড এলাকায় প্ল্যান বহির্ভূত ও অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে একাধিক ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযান চলাকালে মোল্লাবাড়ি রোডের হোসেন মার্কেট এলাকায় হাই ভিশন কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বৈধ অনুমোদন, নকশা অনুমোদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও কয়েকটি স্থাপনায় সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করা হয়। এ সময় নূরে মদিনা টাওয়ার, বরিশাল স্কাইভিউ টাওয়ারসহ একাধিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অপরদিকে মিক্তি বাড়ি বটতলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান পরিচালনার সময় অভিযানের খবর পেয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে শ্রমিকদের ভেতরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর ওই ভবনেরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে অভিযানে যেসব ভবন মালিক অনুমোদিত প্ল্যান, সেটব্যাক, ফ্লোর এরিয়া ও নির্মাণমান যথাযথভাবে প্রদর্শন করতে সক্ষম হন, তাদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বৈধ অনুমোদন থাকা এক ভবন মালিককে কর্মকর্তারা ধন্যবাদও জানান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাউকের সচিব (উপসচিব) মোঃ মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC), ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন অনুসরণ না করে কেউ ভবন নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “অনুমোদিত নকশা ব্যতীত ভবন নির্মাণ, রাস্তা দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখা, নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি—এসব অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গঠনে গাউকের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।” অভিযান পরিচালনার সময় গাউকের অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, ইমারত পরিদর্শক এম এ মালেক সরকার, ইমরান শেখ ও হরষিত সানাসহ পুলিশ সদস্য, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে নূরে মদিনা টাওয়ারের পরিচালক মোশারফ হোসেন সামি মুঠোফোনে বলেন, “গাউক কর্তৃপক্ষ আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ভবনের অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যথাযথ নিয়ম মেনেই নির্মাণ কাজ পরিচালনা করবো।” স্থানীয় সচেতন মহল অভিযানের প্রশংসা করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় নকশা বহির্ভূত ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের অভিযোগ ছিল। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে নগর পরিকল্পনা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।