স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার মহাসড়কে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে গাছা থানা পুলিশ। সোমবার বিকেলবেলা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজারস্থ জালাল শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গাছা থানায় কর্মরত চৌকস উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিমের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে ছিনতাইয়ের কৌশল নস্যাৎ করে দিয়ে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে আটককৃত ওই ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র এবং অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসআই ইব্রাহিমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আটককৃত ছিনতাইকারী কোনো সাধারণ কিংবা নবাগত অপরাধী নয়। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় সক্রিয় একটি ছিনতাইকারী চক্রের মূল সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বেও গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০ থেকে ১৫টি মামলা রয়েছে। এসআই ইব্রাহিম বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে নির্জন কিংবা কম আলোকিত স্থানে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের গতিরোধ করত। পরবর্তীতে ধারালো কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিত।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারকরণে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে গাছা থানা পুলিশ। বিশেষ করে রাতের বেলা চলাচলের সময় সাধারণ জনগণ এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তা বিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন এসআই ইব্রাহিম। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইকারীরা নতুন একটি কৌশল অবলম্বন করছে। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে দুই বা তিনজন ব্যক্তি একই মোটরসাইকেলে চেপে এসে কোনো সাধারণ পথচারী কিংবা অন্য কোনো মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে কোন নির্দিষ্ট স্থানের ঠিকানা জানার বাহানা করে। ঠিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী কাছে যাওয়া মাত্রই ছিনতাইকারীরা কৌশলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব লুটে নেয়।
এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পথচারী এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম পরামর্শ দিয়ে বলেন, রাতে চলাচলকালে অচেনা বা সন্দেহভাজন কেউ এসে ঠিকানা জানতে চাইলে সবসময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ফাঁকা বা নির্জন স্থানে গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল থামানো যাবে না। পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে না গিয়ে অবিলম্বে নিরাপদ ও আলোকিত জনবহুল স্থানে সরে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বোর্ডবাজার, জালাল শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা এবং এর আশপাশের সর্বস্তরের অধিবাসীদের রাতের বেলা চলাচলে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা গাছা থানা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অপরাধ দমনে জনগণের সচেতনতা ও পুলিশের এই যৌথ প্রয়াস গাজীপুরকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অপরাধদমনে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে শুধু পুলিশের আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সতর্কতা সমানভাবে প্রয়োজন। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সতর্কতার মাধ্যমে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব।