মো: মুর্শিকুল আলম:: শরতের শেষভাগে প্রকৃতিতে এখন ঋতু বদলের আবহ। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, হালকা বাতাস আর মাঠজুড়ে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনের। গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের বিভিন্ন এলাকা ইতোমধ্যে সেজেছে কাশফুলের শুভ্রতায়। বিকেলের মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল আর নির্মল পরিবেশে মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। শরৎ মানেই কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। পালকের মতো নরম ও ধবধবে সাদা এই ফুল প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেয় এক ধরনের স্নিগ্ধতা। শরতের শেষভাগে এসে পূবাইলের খোলা মাঠ, জলাশয়,নদীর পাড় ও বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা কাশফুল এখন নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে।
প্রতিদিন বিকেলে এসব কাশবনে ভিড় করছেন কিশোর-তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে, আবার কেউ কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত কাশবনগুলোতে দেখা যায় মানুষের আনাগোনা। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে পূবাইলের খিলগাঁও-নাগদা ব্রিজসংলগ্ন কাশবনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সাদা কাশফুলের সমারোহ। নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু বাতাসে কাশফুল দুলছে আপন মনে। কেউ কাশবনের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন।
বন্ধুদের সঙ্গে কাশফুল দেখতে আসা ফাসিহা আক্তার বলেন, ‘কাশফুল দেখতে এখানে এসেছি। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ছবি তুলেছি। কাশফুলের কোনো গন্ধ নেই, এটি প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার ফুলও নয়। কিন্তু এর শুভ্রতার মধ্যে অন্যরকম একটা মুগ্ধতা আছে। কাশফুল দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’
ঢাকার বারিধারা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে পূবাইলে ঘুরতে এসেছেন মামুন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ইট-পাথরের শহর আর যানজটের ব্যস্ত জীবনের বাইরে মাঝে মধ্যে প্রকৃতির কাছে আসতে ভালো লাগে। ঢাকার কাছেই হওয়ায় প্রতিবছর এই সময়ে পূবাইলে আসি। এবারও কাশফুলের টানে চলে এসেছি। চারপাশের শুভ্রতা আর বিকেলের বাতাসে ঋতু পরিবর্তনের একটা আবহ অনুভব করছি। এখানে এসে সত্যিই ভালো লাগছে।’
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শরতের শেষভাগে পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় কাশফুল ফুটলে প্রকৃতির দৃশ্য বদলে যায়। কাশবন ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল হয়ে সহজেই পূবাইলে যাওয়া যায়। পথের বিভিন্ন জায়গায় সড়কের দুই পাশে দেখা মেলে কাশফুলের। কালো পিচঢালা রাস্তার দুই পাশে সাদা কাশফুলের সারি, নীল আকাশ আর মৃদু বাতাস সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যে শরতের কাশফুলের রয়েছে আলাদা আবেদন। শরৎ বিদায়ের পথে, সামনে হেমন্ত। এরই মধ্যে পূবাইলের কাশবনে দুলছে শুভ্রতার ঢেউ। নগরজীবনের কোলাহল থেকে একটু স্বস্তি পেতে তাই প্রকৃতির এই সাদা মায়ায় ছুটে আসছেন মানুষ। কাশফুলের দোলায় যেন নীরবে ভেসে আসছে ঋতু বদলের বার্তা।