October 27, 2026, 7:24 pm

গাজীপুরের কালীগঞ্জে লাউ চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে

মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর::
  • আপডেট Tuesday, October 27, 2026
  • 8 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর:: গাজীপুরের কালীগঞ্জে আগাম লাউ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলায় বাড়ছে লাউ চাষের পরিধি। কম সময়ে ভালো ফলন, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় লাউ চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের নতুন পথ খুলছে। সরেজমিনে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিরতুল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, উফশী জাতের বারি-১, বারি-২, বারি-৩ ও বারি-৪ এবং উন্নত হাইব্রিড ‘ময়না’ জাতের লাউ চাষ করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক মো. মাসুদ সরকার জানান, বালু নদীর তীরবর্তী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে আগাম লাউ চাষ করতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে লাউ বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করেছেন তিনি। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, লাউ চাষে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্য ফসলের তুলনায় এতে ঝুঁকি কম, লাভের সম্ভাবনাও বেশি। কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে লাউয়ের ফলন বাড়ানো সম্ভব।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কালীগঞ্জে প্রায় ২০৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতি ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৭০ মণ বা প্রতি হেক্টরে ২০ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত চাষপদ্ধতি ও উপযুক্ত জাত নির্বাচন করলে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। বারি লাউ-৪ ও ময়না জাতকে উন্নত ফলনশীল জাত হিসেবে উল্লেখ করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মোল্লা জানান, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় লাউ ভালো জন্মে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ ফসল চাষের উপযুক্ত সময়। এ অঞ্চলের মাটি লাউ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বিশেষ করে দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় লাউ চাষে তাঁদের আগ্রহ এবং ফলন—দুটিই বেড়েছে। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রেখে চাষ করতে পারলে কৃষকরা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভবান হতে পারেন।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক মুঠোফোনে বলেন, মাচায় লাউ চাষ একটি লাভজনক কৃষিপদ্ধতি। কৃত্রিম পরাগায়ন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত জাত নির্বাচন, যথাসময়ে চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমানো যায়। পাশাপাশি জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমন করলে উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। সবজি ও শাক—উভয় হিসেবেই লাউয়ের চাহিদা রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর