August 27, 2026, 2:29 pm

থিয়েটারের নাট্যকর্মী থেকে টেলিভিশনের সফল চিত্রনাট্যকার মনসুর রহমান চঞ্চল

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, August 27, 2026
  • 6 জন দেখেছে

শাহজাহান শোভন:: নাট্যাঙ্গনে অভিনয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে টেলিভিশন নাটকের চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন মনসুর রহমান চঞ্চল। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা, টেলিভিশন নির্মাণের অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীল লেখনীর মাধ্যমে তিনি দেশের নাট্যাঙ্গনে পরিচিত একটি নাম।

১৯৯৭ সালে ‘নাট্যজন’ গ্রুপ থিয়েটারের একজন নাট্যকর্মী হিসেবে মনসুর রহমান চঞ্চলের নাট্যচর্চার শুরু। থিয়েটারে কাজের মধ্য দিয়ে নাটকের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০০০ সালের শুরুর দিকে তিনি মাছরাঙা প্রডাকশন লিমিটেডের জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে টেলিভিশন মিডিয়ায় প্রবেশ করেন।

২০০৩ সালে অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমির প্রডাকশন হাউস ‘কৃষ্ণচূড়া প্রডাকশন লিমিটেড’-এর যাত্রা শুরু হলে শুরু থেকেই সেখানে কাজের সুযোগ পান চঞ্চল। পরিচালককে সহযোগিতা ও কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি টেলিভিশন নাটক নির্মাণের নানা পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

২০০৫ সালে আফসানা মিমির পরিচালনায় নির্মিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কাছের মানুষ’-এর মাধ্যমে নাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মনসুর রহমান চঞ্চল। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকের নাট্যরূপ দেওয়ার মাধ্যমে লেখক হিসেবে তার সৃজনশীল যাত্রা নতুন মাত্রা পায়।

এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকের মধ্যে রয়েছে আফসানা মিমির পরিচালনায় ‘ডলস হাউস’, ‘পৌষ ফাগুনের পালা’ ও ‘সাংয়কাল’; রহমতুল্লা তুহিনের পরিচালনায় ‘ক্ষণিকালয়’ ও ‘দৈতস্বত্তা’; অম্লান বিশ্বাসের ‘নো প্রবলেম’; শহীদুজ্জামান সেলিমের ‘ডিবি’; আবুল হায়াতের ‘বনফুলের ঘ্রাণ’; শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাখাওয়াত শিবলীর ‘এক ঝাঁক মৃত জোনাকী’; কৌশিক শংকর দাশের ‘এমিল ও গোয়েন্দা বাহিনী’ এবং রাকেশ বসুর ‘চাওয়া পাওয়া’ উল্লেখযোগ্য।

ধারাবাহিকের পাশাপাশি অসংখ্য একক নাটকও রচনা করেছেন মনসুর রহমান চঞ্চল। তার উল্লেখযোগ্য একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সখি’ (পরিচালনা—আফসানা মিমি), ‘অসময়’ (আরিফ খান), ‘গাড়ি’ (বাপ্পারাজ), ‘অন্তহীন’ (কৌশিক শংকর দাশ), ‘অহংকার’ (শহীদুজ্জামান সেলিম), ‘বিপরীত বিন্দু’ (রহমতুল্লা তুহিন), ‘নিঝুম রাত্রি’ (শহীদুজ্জামান সেলিম), ‘উপকথা’ (চয়নিকা চৌধুরী), ‘লাভ ইউ বাবা’ (পরিচালনা—মনসুর রহমান চঞ্চল), ‘কুয়াশা ভোর’ (সাজ্জাদ সনি), ‘প্রেমহীন প্রণয়’ (আরিফ খান), ‘এই মাধবী রাতে’ ও ‘অনুভব’ (শহীদুজ্জামান সেলিম), ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ (মুনিরা ইউসুফ মেমী), ‘বৈরী হাওয়া’ (সরদার রোকন), ‘স্টেশন’ (রাকেশ বসু) এবং ‘অবিশ্বাস’ (মাহমুদ হাসান রানা)। লেখালেখির পাশাপাশি নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন মনসুর রহমান চঞ্চল। ‘লাভ ইউ বাবা’ নাটকটি পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। নাট্যকারদের পেশাগত অধিকার, নাট্যচর্চার উন্নয়ন এবং টেলিভিশন নাটকের মানোন্নয়নে তার এই সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

থিয়েটার দিয়ে যার যাত্রা শুরু, সেই মনসুর রহমান চঞ্চল দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ টেলিভিশন নাটকের পরিচিত চিত্রনাট্যকার। নাট্যভাবনা, গল্প বলার নিজস্বতা এবং নির্মাণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ও দর্শকনন্দিত কাজ উপহার দেওয়াই তার লক্ষ্য।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর