স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে সিকিউরিটি গার্ড থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে। কে সে নুরু মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিকিউরিটি গার্ড নুরু মিয়া রাতারাতিই আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মাজার বস্তির কোটি টাকার মাদকের সাম্রাজ্য। সম্প্রতি হাজী মাজার বস্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্ছেদ ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে নুরু মিয়াকে। অপরাধের মূল রূপকার হয়েও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মাদকবিরোধী’ সাজানোর এই লোকদেখানো নাটক দেখে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহলের প্রশ্ন কিসের শক্তিতে এবং কার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ায় এই কুখ্যাত মাদক সিন্ডিকেট প্রধান নুরু মিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নিজের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাজার বস্তি এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের পুরো লাগাম এখন নুরু মিয়ার হাতে। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তিনি বড় বড় মাদকের চালান আনা, নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়াসহ সমস্ত কাজ করে থাকেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল চুনোপুঁটি বা খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও মাস্টারমাইন্ড নুরু থেকে যান সম্পূর্ণ নিরাপদে। চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার হলেও তার সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, কারণ পেছন থেকে চালকের আসনে থাকেন নুরু মিয়া নিজেই।
অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটানো একজন নৈশপ্রহরী অল্প সময়ের ব্যবধানে কীভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অগাধ সম্পত্তির মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। সামনে এক ধরনের ভালো মানুষের মুখোশ পরলেও নেপথ্যে তিনি ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নুরুর এই দ্বিমুখী প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ পুরো এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর নুরু মিয়ার এই অস্বাভাবিক সম্পদের উৎস এবং মাজার বস্তিতে তার একক মাদক সাম্রাজ্যের শেকড় অনুসন্ধানে র্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, নেপথ্যের এই মূল কারিগরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে মাজার বস্তিকে মাদকমুক্ত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।