August 24, 2026, 11:23 am

উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের অট্টালিকা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: ডেপুটি স্পিকার

Reporter Name
  • আপডেট Monday, August 24, 2026
  • 11 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের অট্টালিকা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই হতে পারে প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি। রোববার দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসন, দুর্গাপুরের উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি (বিরিশিরি) মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণি/সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি/সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমাকে আপনারা দয়া করে গতানুগতিক ধারার কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা এমপি হিসেবে দেখবেন না। আমি শুধু ইট-পাথরের অট্টালিকা বা দালানকোঠা নির্মাণ করে উন্নয়নের প্রমাণ দিতে চাই না। আমি চাই আমাদের এ অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবিক উন্নয়ন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে অতিথিদের বক্তব্য শোনার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, আজকে সাধারণ শাখায় ২৮ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনই হচ্ছে আমাদের সুমেশ্বরী কন্যা (নারী শিক্ষার্থী)। আমি স্বপ্ন দেখি, আজকে বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী দিনে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা থেকেই কেউ একজন এমন পদে আসীন হবে।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ আমরা বিএ, এমএ পাস করে বেকার থাকি, টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে কেউ বেকার থাকে না।
তিনি বলেন, আমরা যে যত বড়ই হই না কেন, প্রত্যেকেই কিন্তু মানুষ। মানুষ হিসেবে আমরা যদি আমাদের কর্মের মাধ্যমে নিজেদের কাছে আত্মতৃপ্তি না পাই, তাহলে মানুষ হওয়ার কোনো সার্থকতা নেই। সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলেই কেবল এই আত্মতৃপ্তি লাভ করা সম্ভব।
অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বইটির সব অর্থ হয়তো একবারে বোঝা সম্ভব নয়। ডিকশনারি পাশে নিয়ে বইটি পড়বে। তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার ক্ষেত্রে এই বইটি অনেক কাজে লাগবে।
দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় উপস্থিত সবার ক্ষুধার কথা বিবেচনা করে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। অনুষ্ঠানে দেরিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, কৃতি শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর