নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টঙ্গীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ নাট্যসংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহজাহান শোভন। দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চা, অভিনয়, সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিজেকে একজন সফল সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৯৩ সালে টঙ্গী শিশু থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর নাট্যজগতে পথচলা শুরু। নাট্যগুরু প্রেমনাথ রবিদাসের হাত ধরে তিনি নাট্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়, নাট্যচর্চা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। দীর্ঘ পথচলায় টঙ্গীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন পরিচিত ও সক্রিয় মুখ।
মঞ্চনাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও রয়েছে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা। তাঁর অভিনীত ও সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আয়নাবাজি’, ‘মাস্তুল’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘কার্ণিশ’, ‘বাঙ্গার বয়’, ‘তারক’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘তাণ্ডব’। নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নাট্যচর্চায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
নাট্যচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও সংগঠিত করার লক্ষ্যে শাহজাহান শোভন প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাট্যভূমি’। প্রতিষ্ঠাতা ও দলপ্রধান হিসেবে তিনি সংগঠনটির মাধ্যমে নাট্যচর্চা, অভিনয় প্রশিক্ষণ, নাট্যকর্মী তৈরি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে নাট্যভূমি নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
শুধু নাট্যাঙ্গনেই নয়, সাহিত্য ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০০২ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগার’। পাঠাভ্যাস সৃষ্টি, শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে।
শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শাহজাহান শোভন বিভিন্ন পাঠচক্র, আলোচনা, কবিতা পাঠ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থায়ী কার্যালয়ের অভাবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন।
শাহজাহান শোভনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পথচলায় নাটক, অভিনয়, সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে মাদক, অপসংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল ও মানবিক চেতনায় গড়ে তোলা। এজন্য শিশু-কিশোরদের নাট্যচর্চায় যুক্ত করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
টঙ্গীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পথচলা, নাট্যচর্চার অভিজ্ঞতা এবং সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতার কারণে শাহজাহান শোভন বর্তমানে একজন সফল নাট্যসংগঠক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে পরিচিত। নাট্যগুরু প্রেমনাথ রবিদাসের হাত ধরে যে পথচলার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে, সেই পথচলা আজও অব্যাহত রয়েছে নাটক, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে।
নাট্যভূমি ও শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের মাধ্যমে তাঁর এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা টঙ্গীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের।